শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতির সূর্যসন্তানদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে সকাল ৯ টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে শোক র্যালির আয়োজন করা হয়। শোক র্যালির নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন।
তারপর শহীদদের স্মরণে ববির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষকমন্ডলী, পরিচালকবৃন্দ, দপ্তর প্রধানগণ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য মহোদয়ের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই পর্যায়ক্রমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, নীল দল, সেক্টর কমান্ডার’স ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ-৭১ ববি শাখা, অফিসার্স এসোসিয়েশন, কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বঙ্গবন্ধু হল, শেরে বাংলা হল, শেখ হাসিনা হল, ২৪টি বিভাগ, গ্রেড ১১-১৬ ও গ্রেড ১৭-২০ কল্যান পরিষদ, ডিবেটিং সোসাইটি, কীর্তনখোলা ফিল্ম সোসাইটি, সাংবাদিক সমিতিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স হলে সকাল ১০ টায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ সিরাজিস সাদিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপাচার্য, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষক সমিতির বর্তমান এবং নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, বাঙালী জাতি যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আহবানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশমাতৃকাকে বিজয়ের দাড় প্রান্তে পৌঁছে নিয়ে গিয়েছিল ঠিক তখনই অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে জাতিকে মেধা শূন্য করার লক্ষ্যে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা তালিকা করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নির্মম ভাবে হত্যা করে। তারা ভেবেছিলো এর মাধ্যমে বাঙালীকে নেতৃত্বশূন্য করা যাবে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।
একই ভাবে আবার ৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে বাঙালীর ইতিহাসকে মুছে দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরে হলেও বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাঙালী জাতি আজ ঘুরে দাড়িয়েছে। তরুন প্রজন্ম আজ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চর্চা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ে ধরণ করছে।
উপাচার্য শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের এ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমানে যে যে অবস্থানে আছে প্রত্যেককে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে কাজ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে দাড়াতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
উল্লেখ্য, ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাঙালীর বিজয় যখন সুনিশ্চিত ঠিক তখনই পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা বাঙ্গালী জাতিকে মেধা শূন্য ও নেতৃত্বশূন্য করার লক্ষ্যে কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের ওপর চালায় বর্বরোচিত ও পৈচাশিক হত্যাকান্ড। আর এই দিনটি বাঙালী জাতির ইতিহাসে একটি অন্যতম বেদনাঘন দিন।
বার্তাবাজার/কেএ