সরিষাবাড়ীতে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌ চাষিরা

 

পাট, সরিষা আর গরুর গাড়ী, এই নিয়ে সরিষাবাড়ী।  জামালপুরের অন্যতম ও শিল্প শহর সরিষাবাড়ী উপজেলা। পাট, সরিষা ও গরুগাড়ির জন্য এক সময় বেশ নামডাক ছিল সরিষাবাড়ির।  নানা কারণে পাটকলগুলোর অস্তিত্ববিলীন হওয়ায় পাট আবাদে ভাটা আর কালের আবর্তে গরুগাড়ির প্রচলন কমে গেছে। তবে সরিষা আবাদের ঐতিহ্য এখনো রয়েছে।  প্রাচীন তথ্যমতে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানে সরিষার আবাদ ভাল হওয়ায় বৃটিশ আমলে উপজেলাটির নামকরণ হয় সরিষাবাড়ি।  উপজেলার চরাঞ্চলগুলো সরিষা আবাদের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় দিগন্তজুড়ে এখন সরিষা ফুলের সমারোহ।  চারদিকে সরিষা ফুলের গন্ধে মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই সরিষা ফুলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মৌ চাষিদের চলছে মধু সংগ্রহের কাজ। বসেছে প্রায় ৮৫০টি মধু সংগ্রহের বাক্স। এসব বাক্স থেকে আসবে প্রায় ২০ মেট্রিক টন মধু ।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভা রয়েছে। পৌরসভাসহ প্রতিটি ইউনিয়নেই সরিষার আবাদ করা হয়ে থাকে। চলছে সরিষার মৌসুম।  বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে হলুদের সমারোহ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।  চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ২শত হেক্টর সেটা বেড়ে ৩ হাজার ৩শত ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এ বছর টরি-৭ ও বারী-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করা হয়েছে। মাঠে মাঠে এখন নয়নাভিরাম সরিষার হলুদ ফুলের অপরূপ দৃশ্য। দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।  এই অপরূপ দৃশ্যে দেখে মুগ্ধ স্থানীয় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রকৃতি প্রেমী মানুষ।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বছর সরিষার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে বৈরী আবহাওয়া না হলে ও সরিষার দাম ভালো থাকলে কৃষকরা লাভের মুখ দেখবে।  এছাড়া সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধকরণ, মাঠ পরিদর্শন, ক্ষতিকর পোকা-মাকড় নিধন ও বাজারজাত সহযোগিতাসহ উপসহকারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে চাষীদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর