সরিষাবাড়ীতে স্বামীর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বেকার সন্তানদের নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন হেনা বেগম
স্বামীর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও পাঁচ বেকার ছেলে-মেয়ে নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন এক প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী হেনা বেগম (৭০)। জরাজীর্ণ দো’চালা টিনের ও বাশেঁর চাটাই দিয়ে বানানো ঘরে হেনার বসবাস। বয়সের ভারে শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে গেছে। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে যা পায় তা দিয়ে তার অভাবের সংসার চলেনা। মাসের বেশির ভাগ সময়ই থাকেন অসুস্থ। অনেক সময় সাহায্য চাইতে বের হতে পারেন না। যে কারনে পরিবারের বেকার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কোনদিন দুই বেলা আবার কোনদিন না খেয়েও থাকতে হয়। স্বামীর মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতি নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি। তার ইচ্ছা মারা যাওয়ার আগে তার বেকার ছেলে মেয়েদের চাকরি দেখে যাওয়া।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ইজারাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রহমান খান। তিনি মারা গেছে প্রায় ২০ বছর আগে। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই বিধবা হেনা পাঁচজন বেকার ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আগে থেকেই টাকার অভাবের কারনে ছেলে-মেয়েকে সবাইকে উচ্চ শিক্ষিত করতে পারেননি। তবে মানুষের সহোযোগীতায় চারজনকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়িয়েছেন। তবে মেয়ে হাসি বেগম নানা কষ্টের মধ্যেও ডিগ্রি পর্যন্ত পড়েও কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পাওয়ায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তবে হাসি বেগম ছাড়া অন্য তিনমেয়ের বিয়ে হলেও তারা এখন স্বামী পরিত্যক্তা। বড়মেয়ে রুমি বেগমের স্বামী খুন হওয়ার পর থেকে দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ীতেই থাকেন। অন্য দুইমেয়ে আর্থিক সমস্যায় তালাকপ্রাপ্তা হয়ে এখানেই থাকেন।
মুক্তিযোদ্ধা সনদ সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী পৌরসভার ইজারাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম খানের ছেলে আব্দুর রহমান খান। ১৯৭১ সালে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রামাণ্য তালিকায় ৭৩ নং খন্ডে- ১৮,১৯৯ ক্রমিকে তাঁর নাম অর্ন্তভূক্ত রয়েছে। তার সনদ নম্বর ২২৮১৮। ১১নং সেক্টরে তিনি একাধিক সম্মুখযুদ্ধসহ বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২০০০ সালের ১ অক্টোবর আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান খানের মেয়ে হাসি বেগম বলেন, ‘আমি হাজার কষ্ট অভাবের মধ্যে থেকেও ডিগ্রি পাশ করেছি। আমার এই কষ্টের কোন দাম নেই। কি লাভ হয়েছে আমার এতো কষ্টের ড্রিগ্রি অর্জন করে।‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকা সত্তেও একটা চাকরির জন্য কত দপ্তরে আবেদন করেছি কিন্তু সুপারিশ ও তদবির না থাকায় কোন লাভ হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান খানের স্ত্রী হেনা বেগম বলেন, “কেউ আমাদের খোঁজ নেয়না। আমি খুবই অসুস্থ। আমার মেয়েও অসুস্থ্য। চিকিৎসা করার মতো টাকা পয়সা নাই। ভিক্ষা করতে যাব তাও যেতে পারিনা। যে কয়টা টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাই তা আমার ও আমার মেয়ের চিকিৎসা করাতেই শেষ হয়ে যায়। এই বড় সংসার নিয়ে বর্তমানে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।”
এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘পরিবারটি খুব অসহায়। ছেলে-মেয়েদের যোগ্যতার অভাবে চাকরি হয়নি। তবে তারা সরকারি ঘর পাওয়ার উপযুক্ত। বিষয়টি আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করবো।
বার্তা বাজার/এম.সি