ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার চাপাসা ও রাণীশংকৈল উপজেলার কোচল সীমান্তের মাঝামাঝি কুলিক নদীর তীরে পাথরকালী মেলা উপলক্ষে লাখো মানুষের সমাগমে মিলন মেলায় পরিণত হয় সীমান্ত এলাকা। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত চলে এই মেলা।
বাংলাদেশ ও ভারতীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছু সময় কথা বলার সুযোগ করে দেয় ভারতীয় বিএসএফ ও বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি। দুই দেশে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনদের একনজর চোখের দেখা দেখার জন্য হাজারো মানুষ উপস্থিত হয়।
নাড়ীর টানে বা মায়ার বন্ধনে দুই বাংলা থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে আসে লাখো মানুষ। অনেক খোজাঁখুজির পর নিজের আত্বীয় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে একটু বুকে জড়িয়ে ধরার ইছা পোষন করলেও কাঁটা তারের বেড়ার কারণে উপস্থিত নারী পুরুষদের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
চোখের পানি ফেলে নিকটজনকে কাছে পাওয়ার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অনেকে। দীর্ঘদিন দুরে থাকা, দেখা না হওয়া, অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আবার প্রিয়জনের দেখা না পেয়ে অনেককে চোখের পানি ফেলে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থেকে আসা রওশন এলাহী জানান, চাচা ভারতে থাকেন দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তার সঙ্গে কোন দেখা না হওয়ায় আজ সহপরিবারে তার সাথে দেখা করতে এসেছি। বগুড়ার গাবতলী থেকে ভাগনীর সাথে দেখা করতে এসেছেন রানু পাল। তিনি জানান, অনেকদিন পরেই আজ ভাগনী ও তার পরিবারের সাথে দেখা হয়েছে। অনেকটাই আনন্দিত। তারাও আমাদের বিভিন্ন উপহার দিয়েছে আমরাও তাদের এ দেশের শাড়ি কাপড় দিয়েছি।

রানীশংকৈল উপজেলার উত্তর লেহেম্বা থেকে মেয়েরে সাথে দেখা এসেছেন নগেন ও তার স্ত্রী। তার মেয়ে ভারতের নকশাল বাড়িতে থাকেন। তিনি জানান,দীর্ঘদিন তাদের সাথে দেখা না হওয়ায় এবারে তাদেরকে দেখতে মিলন মেলায় হাজির হয়েছি। অনেক খোজাখুজি করে তাদের সাথে দেখা ও কথা হয়েছে।
মেলা কমিটির সভাপতি নগেন কুমার পাল জানান, প্রতি বছর দুই দেশের মিলন মেলার জন্যই পাথরকালী মেলার আয়োজন করা হয়। দেশ বিভাগের পূর্বে এ এলাকা ছিল ভারতবর্ষের আওতায়। পরবর্তীতে দেশ দেশ ভাগ হলে এখানে বসবাসরত বাসিন্দাদের অনেকে ভারতে পরে যায়। আর পাথরকালী পূজা অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবছর ডিসেম্বরের ১ম শুক্রবার।
এই একটি দিনে আত্বীয় স্বজনদের দেখার জন্য এ এলাকার বাসিন্দারা বছর জুড়ে অপেক্ষা করে থাকে।
বার্তা বাজার/ডব্লিও.এস