জামিনের আশায় বিএনপি, খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আজ

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জামিন শুনানি আজ। বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আশায় আছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। আপিল বিভাগের দিকে দৃষ্টি সবার।

বিএনপির আইনজীবী নেতারা বলছেন, জামিন বেগম জিয়ার সাংবিধানিক অধিকার। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মানবিক বিবেচনায় জামিন পাবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এদিকে বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে পৌঁছানো হয়েছে। মামলাটি আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ১২ নভেম্বরে শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকাল থেকেই সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ এজলাসে প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। সংশ্লিষ্ট মামলার আইনজীবী এবং গণমাধ্যম কর্মী ছাড়া কাউকে এজলাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। উচ্চ আদালত ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ মামলার শুনানিতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোলের জেরে আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাসে (প্রধান বিচারপতির এজলাস) বসানো হয়েছে আটটি সিসিটিভি ক্যামেরা। স্বাধীনতার পর উচ্চ আদালতের কোনো এজলাসে ক্যামেরা বসানোর ঘটনা এই প্রথম। ক্যামেরা বসানোকে স্বাগত জানিয়েছে দুই পক্ষের (খালেদা জিয়া ও রাষ্ট্রপক্ষ) আইনজীবীরা।

এদিকে আজ কোনো কারণে জামিন না হলে উচ্চ আদালতের ভিতরে-বাইরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি রয়েছে বিএনপির আইনজীবীসহ নেতা-কর্মীদের। সারা দেশেও তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে পারে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বিএনপির অভিযোগ, পুলিশ নেতা-কর্মীদের বাসাবাড়িতে হানা দিচ্ছে। গত দুই দিনে বেশ কয়েকজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেগম জিয়ার মামলার আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমরা আশাবাদী বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় মানবিক কারণেই আপিল বিভাগ জামিন দেবে। এ মামলায় কোনো সাক্ষী, তথ্য বা স্বাক্ষর কিংবা বেগম জিয়ার কোনো ভূমিকা নেই। কিন্তু তার পরেও আমরা ওদিকে না গিয়ে শুধু মানবিক কারণে তার জামিন চেয়েছি। আশা করছি, সর্বোচ্চ আদালত তাকে জামিন দেবে।’

৬৭৩ দিন ধরে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৭৪ ঊর্ধ্ব বেগম জিয়া শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. জিলান মিয়া সরকার বলেন, ‘আমরা ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এসেছি। তিনি আগের চেয়ে এখন ভালো আছেন। তবে তার হাত-পায়ের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা রয়েছে। এটা আগেও ছিল। ডায়াবেটিস এখন ওঠানামা করছে। কখনো ১৫, কখনো ১১-১২-১৩।

শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির : বেগম জিয়ার জামিন শুনানিকে ঘিরে আদালতের ভিতরে-বাইরে শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আদেশ নেতিবাচক হলে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বিক্ষোভ করবেন আইনজীবী নেতারা। বাইরে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও বিক্ষোভ করবেন বলে জানা গেছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, সর্বোচ্চ আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার প্রাপ্য অধিকার জামিন দিয়ে মুক্ত পরিবেশে পছন্দমতো হাসপাতালে স্বাধীনভাবে সুচিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দেবে। আইন, সংবিধান, মানবাধিকার, বয়সসহ সকল বিবেচনা অনুযায়ী জামিন পাওয়া তার ন্যায়সঙ্গত অধিকার। দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা চেয়ারপারসনের জামিন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন। আমরা আশা করি, উচ্চ আদালত সবকিছু বিবেচনা করে সঠিক রায় দেবে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা : গত ২৫ নভেম্বর জামিন আবেদনের শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ২৮ নভেম্বর দিন ঠিক করে। এর আগে গত ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন চেয়ে এ আপিল আবেদন করা হয়। গত বছরের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয়। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয় রায়ে।

বার্তা বাজার/ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর